Friday, June 21, 2024
No menu items!
প্রথম পাতালঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এক যাত্রীর বেঁচে ফেরার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা

লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এক যাত্রীর বেঁচে ফেরার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মেহেরিনা কামাল মুন নামে এক যাত্রীর বেঁচে ফেরার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা পাঠকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া হলো।

জানিনা এইসব এখানে বলার মতো কিনা!

শুধু আল্লাহর অশেষ অশেষ অশেষ রহমতে নিজের বেঁচে ফেরার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা বলতে আসলাম। এক কথায় যদি বলি, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করা বা মৃত্যু আসতে দেখা।

২৪ তারিখ রাত তখন আনুমানিক ২.১৫-২০। আমার ঘুম ভেঙে গেছে এমনিতেই। ওয়াশ রুমে গেলাম। এর মধ্যে মেয়েও উঠে বলে, ফিডার দুদু খাবে। মেয়েকে খাইয়ে মাত্রই শুয়েছি। এরই মধ্যে চিল্লাচিল্লি শুনে রুম থেকে বের হলাম দেখার জন্য। কেবিনের সামনের রেলিং দিয়ে উঁকি দিয়েই দেখি আগুন। এক সেকেন্ডও কোনো কিছু চিন্তা না করে রুমে ঢুকে জাস্ট মোবাইল আর বাচ্চাটা কোলে নিলাম।
দৌঁড়ে গেলাম ৩য় তলার একেবারে সামনের দিকে। মাথায় ছিলো খোলা জায়গায় থাকতে হবে। কিন্তু নামবো কিভাবে কোনো পথ পাচ্ছিলাম না। এই টুকু বাচ্চা নিয়ে এই ৩য় তলা থেকে পানিতে নামা মানে বাঁচার সম্ভাবনা কমে যাওয়া।

লঞ্চ ঝালকাঠির ঘাটের কিছুটা কাছাকাছি আসার পরে ৪০-৫০ জন পানিতে ঝাঁপ দিয়ে নেমে গেছে। আমরা উপর থেকে সেটাও সাহস করতে পারিনি। আমিই বেশি আতঙ্কিত ছিলাম৷ কিভাবে নামবো এই বাচ্চা নিয়ে। ওর বাবা বললে, পানিতে নামা লাগলেও নিচ তলা থেকে নামবো। এই বলে সে পরে থাকা জিন্স প্যান্ট খুলে ফেলে। এই সব চলা মধ্যে লঞ্চের ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে লঞ্চ মাঝ নদীতে চলে আসছে।
তখন পানিতে নামা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। কিন্তু যতটা কাছ থেকে নামা যায়। এর মধ্যে আমাদের সামনে এক মহিলা নিজের পরার শাড়ি খুলে রেলিংয়ে বেধে নেমে গেলেন নিচের দিকে। সেই শাড়ি ঝুলে ছিলো। রাজিব মানে বাচ্চার বাবা ভাবলো ওই শাড়ি দিয়েই নামবে মেয়েকে নিয়ে। আমার জাস্ট ৫-৭ সেকেন্ডে মাথায় কাজ করলো যদি বেঁচে যাই তাহলে মোবাইলটা জরুরী।

আমি আমার মোবাইলটা ওড়নার এক মাথায় বেঁধে সেই ওড়না দিয়েই মেয়েকে ওর বাবার কোমড়ে বেঁধে দিলাম। কারণ চিন্তা আসলো হাতে নিয়ে নামলে যেকোনো সময় হাত ছুটে যেতে পারে। এসব করতে করতে তখন আগুন ৩য় তলায়। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছি ভয়াবহ কালো ধোঁয়ার মধ্যে আগুন। মেয়ে শ্বাস নিতে পারছিলো না।

মেয়ের বাবা নেমে গেলো। আমিও তার পেছনে পেছনে নামলাম কিন্তু দোতলা পর্যন্ত নেমে সেই শাড়ি শেষ। অন্ধকার, ধোঁয়ায় রেলিং আর খুঁজে পাচ্ছিলাম না। এক লোক এক টানে আমাকে নিচের ফ্লোরে নামিয়ে আনলো। এর মধ্যে লঞ্চের অন্য পাশ থেকে লোকজন চিল্লাচ্ছে, ভাই আপনার এদিকে আসেন, এপাশে আসেন এদিকে মাটি আছে। পরে সেই ধোঁয়া, অন্ধকারের মধ্যেই ওপাশে যেয়ে কোনো কিছু না ভেবেই লাফ দিলাম। মনে হলো আল্লাহ যেনো নিজে ঠেলে লঞ্চটা সাইডে নিলো। কাঁদার মধ্যে পা আটকে পা মচকালো।

উঠে দাঁড়ানোর শক্তি নেই। মেয়ের বাবা জাস্ট হাত ধরে মাত্রই দাঁড় করিয়েছে এর মধ্যেই পেছনদিকে এক সিলেন্ডার ব্লাস্ট হয়ে গেলো। জাস্ট ভাবছি, এক-দেড় মিনিট দেরি হলে কী হতো জানিনা, আল্লাহ জানে।
আল্লাহ নিজ হাতে বাঁচিয়েছেন আর সাথে মা-বাবার, বড়দের দোয়া ছিলো। হয়তো জীবনে একটা হলেও ভালো কিছু করেছিলাম তার প্রতিদান আল্লাহ দিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য