Monday, June 17, 2024
No menu items!
প্রথম পাতাদেনমোহর ব্যতীত কোন মুসলমানের বিবাহ বৈধ হতে পারে না

দেনমোহর ব্যতীত কোন মুসলমানের বিবাহ বৈধ হতে পারে না

একজন মুসলমানের বিয়েতে আল্লাহ তায়ালা কর্তৃক নির্দেশিত অপরিহার্য প্রদেয়, যা স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রী অর্থ-সম্পদ পেয়ে থাকে তাকেই দেনমোহর বা মোহর বলে। দেনমোহর স্ত্রীর সম্মানের প্রতীক। স্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন স্বরূপ স্বামীর উপর যে দায় আরোপিত হয়েছে সেটাই দেনমোহর। দেনমোহর বিবাহিত মুসলিম নারীর একটি বিশেষ অধিকার। বিবাহের অন্যতম শর্ত দেনমোহর। এই শর্তটি পূরণ ব্যতীত কোন বিবাহ বৈধ হতে পারে না এবং বিয়ে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক।

আল্লাহ তা’আলা বলেন –

“আর তোমাদের স্ত্রীদের তাদের দেনমোহর দিয়ে দাও খুশি মনে। অবশ্য স্ত্রী চাইলে দেনমোহর কিছু অংশ কিংবা সম্পূর্ণ অংশ ছেড়ে দিতে পারে। [সূরা আন-নিসাঃ৪]

বিয়ের সময় দেনমোহর নির্ধারণ না হলে
১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ১০ ধারা মোতাবেক দেনমোহর প্রদানের পদ্ধতি সম্পর্কে কাবিনে বিস্তারিত উল্লেখ না থাকলেও স্ত্রী চাহিবামাত্র সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করতে হবে। বিয়ের সময় যদি দেনমোহর নির্ধারণ করা না হয় এমনকি স্ত্রী পরবর্তীতে কোন দেনমোহর দাবী করবে না এ শর্তে বিয়ে হয় তাহলেও স্ত্রীকে উপযুক্ত দেনমোহর দিতে হবে। দেনমোহর বিয়ের পূর্বে, বিয়ের সময় এমনকি বিয়ের পরে নির্ধারণ করা যেতে পারে।

দেনমোহর নির্ধারণ পদ্ধতি
দেনমোহরের পরিমাণ কী হওয়া উচিত ইসলামী শারীআতে এ সম্পর্কে বিশেষভাবে কোন নির্দেশ দেয়া হয়নি বা কোন সুস্পষ্ট পরিমাণ ঠিক করে দেয়া হয়নি। তাই তা আপেক্ষিক। অর্থাৎ বর ও কনের উভয়ের দিক বিবেচনান্তে তা নির্ধারিত হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক শ. ম রেজাউল করিম বলেন, “দেনমোহর স্বামীর আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ রেখে নির্ধারণ করতে হয়। দেনমোহরের পরিমাণ নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে স্ত্রীর পারিবারিক অবস্থান ও স্বামীর আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনা করা প্রয়োজন। দেনমোহর এত অধিক হওয়া উচিত নয় যা স্বামীর পক্ষে পরিশোধ করা সম্ভব নয়; আবার এত কম হওয়া উচিত নয় যা স্ত্রীর আর্থিক নিরাপত্তা দিতে পারে না “


তিনি আরও বলেন, ”বিয়ের সময় দেওয়া শাড়ি, গহনা, কসমেটিকস বা অন্যান্য জিনিষপত্র দেনমোহরের অংশ নয়। এগুলো স্বামী বা তার পরিবার কর্তৃক স্ত্রীকে দেওয়া উপহার হিসেবে বিবেচিত হবে। অনেক সময় বিয়ের কাবিননামায় শাড়ি, গহনার মূল্য ধরে দেনমোহরের একটি অংশকে উসুল ধরা হয়। এটা ঠিক নয়। দেনমোহর স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে দেওয়া কিছু অর্থ বা মূল্যবান সম্পদকে বোঝাবে, অন্য কিছু নয়।”

যদি স্বর্ণালংকার দিয়ে মহর আদায় করতে হয় তবে তা আগে থেকে ফয়সালা করে নিতে হবে। আর তাতে কনের সম্মতি থাকতে হবে। বিনা ফয়সালায় বিয়ের উপঢৌকনকে দেনমোহর হিসেবে প্রদান করলে তাতে মেয়ে যদি সম্মতি না হয় তবে অবশ্যই স্বামীকে মহর পরিশোধ করতে হবে।

লোক দেখানো ও ঐতিহ্যের দোহাই দিয়ে দেনমোহরের ব্যাপারে অস্বাভাবিক কিছু ধার্য করা ইসলাম সমর্থন করে না। ইসলামী শরিয়তে যৌতুক নেয়া যেমন বৈধ নয়, তেমন বরপক্ষকেও বেশি চাপাচাপি করা যুক্তিসঙ্গত নয়।

দেনমোহর ধরণ
সাধারণত দেনমোহর দুই ধরণের হয়ে থাকে। তাৎক্ষণিক দেনমোহর এবং বিলম্বিত দেনমোহর। তাৎক্ষণিক দেনমোহর স্ত্রী চাওয়ামাত্র পরিশোধ করতে হয়। আর বিলম্বিত দেন মোহর বিয়ের পর যেকোনো সময় পরিশোধ করা যায়। তবে মৃত্যু বা বিয়ে বিচ্ছেদের পর দেনমোহর অবশ্যই পরিশোধ করতে হয়। কারণ তখন দেনমোহর স্ত্রীর কাছে স্বামীর ঋণ হিসেবে থাকে।

স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করলে কিংবা তালাক হলে
স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করলে প্রথম স্ত্রীর সম্পূর্ণ দেনমোহরের টাকা পরিশোধ করতে হবে। তালাক বা স্বামীর মৃত্যুর আগেই স্ত্রী দেনমোহর দাবি করতে পারে এবং স্বামী তখন নির্ধারিত দেনমোহর পরিশোধ করতে বাধ্য। দেনমোহর স্ত্রীর কাছে স্বামীর ঋণ তাই যে কোনো সময় স্ত্রী তা দাবি করতে পারে।

স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীর দেনমোহর আদায়
স্বামীর মৃত্যুর পর দেনমোহর স্ত্রীর কাছে স্বামীর ঋণ হিসেবে ধরা হবে। অন্যান্য ঋণের মতোই এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে। দাফন-কাফনের খরচ করার পর অবশিষ্ট সম্পত্তি থেকে দেনমোহর ও অন্যান্য ঋণ পরিশোধ করতে হবে, এমন কি এই ঋণ পরিশোধ না করলে স্ত্রী স্বামীর উত্তরাধিকারীদের বিরুদ্ধে দেনমোহরের জন্য মামলাও করতে পারে। স্বামীর আগে স্ত্রীর মুত্যু হলেও দেনমোহর দিতে হবে। এক্ষেত্রে স্ত্রীর উত্তরাধিকারীরা এই দেনমোহর পাবার অধিকারী। তারা দেনমোহর পাবার জন্য মামলাও করতে পারে। এছাড়া স্ত্রীর দেনমোহর পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত তার স্বামীর অন্যান্য ওয়ারেশদের এবং তার স্বামীর পাওনাদারদের বিরুদ্ধ জনিত দখল বজায় রাখতে পারবে।

দেনমোহর সংক্রান্ত মামলা স্থানীয় সহকারী জজ আদালত যা পারিবারিক আদালত নামে পরিচিত, সেখানে করা যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য