Friday, June 21, 2024
No menu items!
প্রথম পাতাউদ্ভাবনী উদ্যোগের জন্য পুরস্কার পেলেন জনাব মোঃ সামছু উদ্দিন

উদ্ভাবনী উদ্যোগের জন্য পুরস্কার পেলেন জনাব মোঃ সামছু উদ্দিন

“অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ও ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে মৎস্য সম্প্রসারণ সেবা” নামক উদ্ভাবনী উদ্যোগটি বাস্তবায়নের জন্য মৎস্য অধিদপ্তর বাংলাদেশ-এর মান্যবর মহাপরিচালক (গ্রেড-১) জনাব কাজী শামস আফরোজ নিকট থেকে ক্রেস্ট ও আর্থিক অনুদানের চেক গ্রহণ করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জনাব মোঃ সামছু উদ্দিন।

জনাব মোঃ সামছু উদ্দিন বলেন,” আমাকে সম্মানীত করার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি মহাপরিচালক স্যার এবং মৎস্য অধিদপ্তরের ইনোভেশন টিমের নিকট। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে পুরস্কার প্রাপ্তি কাজের স্পৃহা আরো বহুগুন বাড়িয়ে দিবে বলে আমার বিশ্বাস।” তিনি আরও বলেন, “দেশে ও দেশের মানুষর কল্যাণে আরও কাজ করে যেতে চাই।”

বর্তমানে মৎস্যচাষিগণ মৎস্য বিষয়ক সেবা গ্রহণের জন্য উপজেলা মৎস্য দপ্তরে গমন করতে হয়, যাতে মৎস্যচাষি তথা সেবা গ্রহিতাদের শ্রম, অর্থ এবং সময়ের অপচয় হয়। “মৎস্যচাষি স্কুল”নামক এন্ড্রয়েড অ্যাপটি উদ্ভাবক কর্তৃক প্লে-স্টোরে দেওয়া হয়েছে, যেটি ইতমধ্যে গুগল প্লে-স্টোর থেকে ৪১,৫০০ জন ডাউনলোড করেছেন। মৎস্যচাষ বিষয়ক সকল বিষয়ই অ্যাপটিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে, যা থেকে মৎস্যচাষিসহ সংশ্লিষ্টরা মৎস্য দপ্তরে গমন ব্যতিরেকেই মৎস্য বিষয়ক সেবা পাচ্ছেন। ইউটিউবে “অনলাইন স্কুল”নামে একটি চ্যানেল খুলে সেখানে মৎস্যচাষ সেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন ভিডিও তৈরি করে সেগুলো আপলোড করা হয়েছে, যা থেকে মৎস্যচাষিসহ সংশ্লিষ্টরা মৎস্য দপ্তরে গমন ব্যতিরেকেই মৎস্য বিষয়ক সেবা পাচ্ছেন। বর্তমানে চ্যানেলটিতে ২৮,৯৬০ জন সাবস্ক্রাইবার, ১৪ লক্ষ ভিউ আর ভিডিও দেখা হয়েছে মোট ৬৬,৫০০ ঘন্টা এবং ভিডিও রয়েছে মোট ৫৫টি। বর্ণিত উদ্ভাবনী উদ্যোগের ফলে সেবা গ্রহিতা পেরেশানি থেকে নিষ্কৃতি পাচ্ছেন, কম জনবলের সম্পৃক্ততা, কর্মঘন্টা হ্রাস এবং অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে।

জনাব মোঃ সামছু উদ্দিন বলেন ,বিশ্বব্যাপী অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে মাছচাষে বাংলাদেশ তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে। গত ১৫ বছরে মাছের উৎপান প্রায় ৬২% বৃদ্ধি পেয়েছে। সহজ্যলভ্য ও মানবস্বাস্থ্যে সহজে গ্রহণযোগ্য আমিষ হিসেবে মাছের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে মাছের উৎপাদন এবং বিপননে আসছে নতুনত্ব এবং আধুনিকতার ছোঁয়া। কম খরছে, স্বল্প পরিসরে অধিক উৎপাদনে চাষিরা আগ্রহী হচ্ছে। মাছচাষে নতুন নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ এবং  বাস্তবায়নের হার বেড়েছে। চাষিরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাসহ সম্প্রসারণে জড়িত ব্যক্তিবর্গের সাথে পরামর্শ করে মাছচাষ করার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে বর্তমানে মৎস্যচাষিগণ মৎস্য বিষয়ক সেবা গ্রহণের জন্য উপজেলা মৎস্য দপ্তরে গমন করতে হয়, এতে মৎস্যচাষি তথা সেবা গ্রহিতাদের শ্রম, অর্থ এবং সময়ের অপচয় হয়। তাছাড়া উপজেলা মৎস্য দপ্তরসমূহে কারিগরী জ্ঞানসম্পন্ন লোকবলের যথেষ্ট অভাব। অনেক মৎস্যচাষি জানেন না যে, কোথায় প্রকৃত মৎস্য বিষয়ক সেবা পাওয়া যায়। আবার নতুন চাষিদের মধ্যে অধিকাংশই শিক্ষিত এবং বেকার। তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে পারদর্শী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহারসহ ইউটিউব এবং এন্ড্রয়েড ফোনসেট ব্যবহার করে তাঁরা মাছচাষ বিষয়ক পারামর্শ এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান আহরণ করছে। কিন্তু ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য পরিচালিত কিংবা অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকর্তৃক দেয়া প্রযুক্তিগত পরামর্শে অধিকাংশ চাষীই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। ফলাফল হিসেবে নতুন উদ্যোক্তা কমে যাচ্ছে এবং স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে কম খরচে অধিক উৎপাদনের উদ্দেশ্যটি ব্যহত হচ্ছে।

তিনি বায়োফ্লক এবং রঙ্গিন মাছ নিয়েও গবেষণা করছেন। তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে দেশ আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য